অফবিট দেশ বিদেশ

বিশ্ব জুড়ে ১০০ বছর অন্তর মৃত্যু কেন মহামারির আকার নেয় ?? কি বলছে অতীতের পরিসংখ্যান

Bangla 24×7 Desk : বিশ্ব জুড়ে ভাইরাসের আক্রমণে মানুষের মৃত্যু নতুন কোন ঘটনা নয় । ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে , প্রতি ১০০ বছর অন্তর বিশ্ব জুড়ে মারাত্মক ভাইরাসের আক্রমণে কয়েক কোটি মানুষ মারা যায় । এক সঙ্গে এত মানুষের মৃত্যুর জন্য এই মৃত্যু মহামারির আকার ধারন করেছিল । এর আগে ১৭২০ , ১৮২০, ১৯২০ সালেও ভাইরাসের আক্রমণে অনেক মানুষ মারা গিয়েছিল । যা পরে মহামারির আকার ধারন করেছিল । সেই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে ২০২০ সালেও তার ব্যাতিক্রম হল না।

১৭২০ সালের প্লেগে প্রায় ২০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয় । পৃথিবীর ইতিহাসে এত বিপুল সংখ্যক মৃত্যু আগে কখনো ঘটেনি । জীবন হরণ করা এ মৃত্যুকে ‘দ্য ব্ল্যাক ডেথ’ বা ‘কালো মৃত্যু’ বলে গন্য করা হয় । লেখক দার্শনিক বোক্কাচ্চিওর বর্ণনা থেকে জানা যায় যে , ইউরোপের সমাজ ব্যবস্থার পরিকাঠামো ভেঙে দিয়েছিল প্লেগ। লোকজন তাদের পরিবার পরিজনদের ত্যাগ করেছিল । সবচেয়ে অবিশ্বাস্য হচ্ছে , বাবা-মাও একটি পর্যায়ের পর আক্রান্ত সন্তানের ওপর থেকে চোখ সরিয়ে নিতে বাধ্য হন। যা ছিল যথেষ্ট মর্মান্তিক ।

মধ্যযুগীয় ইতিহাস গবেষক ফিলিপ ডেইলিভার তার এক নিবন্ধে লিখেছেন ,  চার বছর মেয়াদি প্লেগ মড়কে ইউরোপের জনসংখ্যা বিলীন হয়ে যায় যা প্রায় ২০ কোটি। তবে ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় এই  হিসাবের তারতম্য দেখা যায়। যেমন ইতালি , দক্ষিণ ফ্রান্স ও স্পেনে প্রায় ৭৫-৮০ ভাগ মানুষের মৃত্যু হয়  কিন্তু জার্মানি ও ইংল্যান্ডে জনসংখ্যার প্রায় ২০ ভাগ প্লেগের বলি হয়।

এর ঠিক একশ বছর পর ১৮২০ সালের কলেরা লাখ লাখ মানুষের হয় প্রাণহানি । এবার আতঙ্কের নাম কলেরা। ১৮০০ সাল থেকে সারাবিশ্বে কলেরা মহামারি শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন । কলেরা রোগের কথা ভাবলে লাখ লাখ মানুষের আর্তনাদ , শিশুদের চিৎকারের দৃশ্য ভেসে আসবে । ১৮২০ সালে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কলেরায় আক্রান্ত এলাকার দৃশ্য ছিল একেবারেই ভিন্ন। অনেক ইতিহাসবিদদের মতে , সেই সময় হাসপাতাল ছিল কম , ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা এবং সর্বত্র এক ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল । প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা যে হারে বেড়েছিল ও অল্পদিনের ব্যবধানে হাজার হাজার আক্রান্ত ব্যক্তি মারা গিয়েছিল । কলেরা এতটাই মহামারি ছিল যে চীন , রাশিয়া ও ভারতে কলেরায় আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৪ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

নতুন  ধরনের সেই ইনফুয়েঞ্জা প্রথম দেখা গিয়েছিল । প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর  ১৯১৮ সালের ৪ মার্চ  কানসাসের আমেরিকান সেনা সদস্যদের মধ্যে। ততদিনে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সৈন্যরা ফেরার জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। হেমন্ত কাল বা আগস্ট মাস আসতেই  ঝড়ের গতিতে ছড়াতে শুরু করলো সেই জ্বর। বয়স নির্বিচারে আক্রান্ত হলেও বেশি প্রকোপ দেখা গিয়েছিল ২০-৪০ বছরের মানুষের মধ্যে।

এবার আসরে নামে ১৯২০ সালের “স্প্যানিস ফ্লু”। যার আক্রমণে মারা যায় প্রায় ৫ কোটি মানুষ । ‘স্প্যানিশ  ফ্লু ‘  নামের সেই মহামারীতে পরের দুই বছরে সারা পৃথিবীতে মানুষ মারা গেলেন চার কোটির বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যদিও বলছে , সংখ্যাটি আসলে পাঁচ কোটি ,  কারণ ভারতবর্ষে যে এক কোটি মারা গিয়েছিলেন সেটি রেকর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। কোনো কোনো গবেষকের মতে,  মৃতের সংখ্যাটি প্রকৃতপক্ষে প্রায় ১০ কোটি। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে আক্রমণ হলেও , সারা পৃথিবীর কোনো দেশই এই জ্বরের ছোবল থেকে মুক্তি পায়নি ।

Blood sample with respiratory coronavirus positive

কাকতালীয় ভাবে ঠিক ১০০ বছরের মাথায় , বিশ্ব উপলব্ধি করছে এক ভয়ঙ্কর বাস্তব । এবার আসা যাক ২০২০ সালের করোনা ভাইরাস প্রসঙ্গে । করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের অনেক দেশেই। চরম আকার ধারণ করেছে সমগ্র ইউরোপে ও এশিয়ায় । এখনো পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃতের সংখ্যা; কয়েক হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে । প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হয় যে , কোনও প্রাণীদেহ হতে করোনা ভাইরাসটি বিবর্তিত হয়ে আরেকটি মধ্যবর্তী পোষক প্রাণীর মাধ্যমে মানবদেহে সংক্রমিত হয়েছে। ২০২০ সালের ৭ই জানুয়ারি তারিখে চীনা বিজ্ঞানীরা এটিকে একটি নতুন ধরনের ভাইরাস হিসেবে ঘোষণা করে  দেন । জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে  মহামারীর আকার নেয় এই ভাইরাস এবং পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশেই  ছড়িয়ে পড়ে ।

Follow Me:

Related Posts