অফবিট দেশ বিদেশ

বার বার করোনা ভাইরাসের জিনের গঠন বদলের কারণ কি ?? জানুন এর রহস্য

Bangla 24×7 Desk : করোনা আতঙ্কে কাঁপছে গোটা পৃথিবী l করোনার আক্রমণে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ l ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইতালি , স্পেন , জার্মানি সহ ইউরোপের বিভিন্ন রাস্ট্র l এশিয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ ভারতবর্ষ , চিন , ইরান সহ একাধিক রাস্ট্র l

জানা গিয়েছিল , চীনের উহান থেকে এই মারণ ভাইরাস সমগ্র পৃথিবীর বুকে ছড়িয়ে পড়ে l সমস্ত রাস্ট্রেই এই মারণ ভাইরাস থাবা বসিয়েছে l কিন্তু বিজ্ঞানীরা দাবি করেছিলেন বন্যপ্রাণীর শরীর থেকেই এই ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। আর বন্য প্রাণীর মাংসের বাজার বলতে আগে আসে চিনের ” ওয়েট মার্কেট ” । এখানেই বাদুড় , প্যাঙ্গলিন সহ নানা প্রাণীর মাংস বিক্রির কথা সকলেই জানে । অনেকের মত, শুধু বাদুড় নয়, প্যাঙ্গোলিনও এই ভাইরাসের অন্যতম বাহক। কারণ বাদুড় ও প্যাঙ্গোলিন দুই প্রাণীর শরীরেই এমন ভাইরাল জিন মিলেছে যার সঙ্গে সার্স-কভ-২ এর সাদৃশ্য রয়েছে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে , মানুষ থেকে মানুষে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া সহজ নয় । এর জন্য অন্তত ৪০ বছর সময় লাগে । এর পিছনে অনেকগুলো কারণ কাজ করে। তা হল , প্রত্যেক ভাইরাসের একটা স্বাভাবিক উৎস থাকে। প্রাণীর শরীর থেকে মানুষের সংস্পর্শে আসা এবং মানুষের শরীরে নতুন বাহক কোষ খুঁজে বের করা কিন্তু অত্যন্ত জটিল একটা প্রক্রিয়া। আবার , মানুষের শরীরে যদি ভাইরাস ঢুকেই পড়ে , তাহলে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে ছড়িয়ে পড়া এত দ্রুত সম্ভব নয়।

ধরা যাক প্যঙ্গোলিন হল কোনও একটি ভাইরাসের উৎস। এখন সেই প্যঙ্গোলিনকে আগে মানুষের সংস্পর্শে আসতে হবে। প্যঙ্গোলিনের দেহ থেকে ভাইরাস মানুষের শরীরে আসার সময় চেষ্টা করবে নতুন বাহক কোষ খুঁজে বার করার। মানব দেহের কোষের প্রোটিন যদি ভাইরাসের মনোমত হয় তাহলে ভাইরাস প্রোটিন তার সঙ্গে জোট বেঁধে কোষের মধ্যে ঢুকে পড়ে।

মানুষের শরীরে একবার ঢুকে পড়লে ভাইরাস মানব দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিকে নিজের কব্জায় আনতে চেষ্টা করে । বিজ্ঞানীরা বলেন , কোনও ভাইরাস হয়তো ফুসফুসকে আক্রান্ত করে , আবার কোনও ভাইরাস কিডনি বা হার্টকে সংক্রামিত করে ।

ইনফুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণের সময় থেকেই ভাইরাস তার চরিত্র বদল করে। এই ভাইরাসের ৮টা জিনোম খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল। নতুন তৈরি হওয়া এই ভাইরাল জিন অনেক বেশি শক্তিশালী ও সংক্রামক। তার ট্রান্সমিশনের ক্ষমতা অনেক বেশি। মিউটেশন বা জিনের গঠন বদলে বদলে ভাইরাস খুব দ্রুত সংক্রামিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। একটা সময় মহামারীর চেহারা নিচ্ছে।

Follow Me:

Related Posts