আবহাওয়া রাজ্য

ঘূর্ণিঝড় আমফানের দাপটে কার্যত ছিন্নভিন্ন দক্ষিণবঙ্গ সহ গোটা রাজ্য

Bangla 24×7 Desk : অকল্পনীয় , অপূরণীয় ক্ষতি l ঘূর্ণিঝড় আমফানের দাপটে গোটা দক্ষিণবঙ্গ সহ সারা রাজ্য ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছে l এই ক্ষতির মূল্যের পরিমাণ বিচার করলে তা হাজার ছেড়ে লক্ষ – কোটিতে পৌঁছে যেতে পারে l

দক্ষিণবঙ্গের জেলা গুলির মধ্যে উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা , কলকাতা , হুগলী সহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় আমফান তার ধ্বংসলীলা চালিয়েছে l পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দীঘা , তাজপুর,শঙ্করপুর মন্দারমণির মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলির অবস্থা শোচনীয় l উপকূল এলাকা হওয়ার জন্য ঝড়ের কারণে গাছ ভাঙ্গার সাথে সাথে এলাকায় প্রচুর মাটির বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে । বৈদ্যুতিক পোস্ট এবং তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। এছাড়া মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবাও বেহাল।

দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার মধ্যে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব মারাত্মক। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য। এছাড়া ক্যানিং মহকুমার গোসাবা , বাসন্তী সহ কুলতলী , জয়নগর এলাকার অধিকাংশ জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন , নেই বিদ্যুৎ সংযোগ । পরিস্থিতি ঠিক কবে স্বাভাবিক হবে তার সঠিক উত্তরের অপেক্ষায় এই সকল এলাকায় বসবাসকারী মানুষজন l

কাকদ্বীপ , গঙ্গাসাগর সহ পাথরপ্রতিমা , বকখালি , ফ্রেজারগঞ্জ এর মত পর্যটন কেন্দ্র গুলি আমফানের তাণ্ডবে কার্যত ধুয়ে মুছে গিয়েছে। ঝড়ের দাপটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ এলাকা l এছাড়া হাসনাবাদ , সন্দেশখালি সহ বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এখন শুধুই হাহাকার l

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেন , ” উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ‘উত্তর ও দক্ষিণ পরগনা জেলায় পানীয় জল নেই। রাস্তা নষ্ট হয়ে গিয়েছে । রাস্তা সারানোর পরে সারানো রাস্তা অন্তত ৩ বছর স্থায়ী হয় , এটাও দেখতে হবে। অতি দ্রুততার সাথে বাঁধগুলো মেরামত করতে হবে। ” এছাড়া তিনি বলেন , ” গঙ্গাসাগর , নামখানা , কাকদ্বীপ , ফ্রেজারগঞ্জ , কুলতলি সহ ভাঙড় , জয়নগর , হাসনাবাদ , সন্দেশখালি , গোসাবা সব জায়গা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন , ” ঝড়ের তাণ্ডবে মৃত ব্যক্তিদের পরিবারকে আড়াই লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য সরকার । উদ‍্যান পালন ও কৃষি দপ্তরের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও খতিয়ে দেখতে হবে l কৃষি দপ্তরের সাথে পঞ্চায়েত , খাদ‍্য ও উদ‍্যানপালন , সেচ , মৎস্যচাষ এবং স্বাস্থ্য দপ্তর হাতে হাত রেখে কাজ করবে l আগামী সাত দিনের মধ‍্যে সার্ভে রিপোর্ট জমা দিতে হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী ।”

Follow Me:

Related Posts