রাজ্য

রাজ্যের প্রথম ব্যক্তি চিরঞ্জিতের দেহে কো-ভ্যাক্সিনের প্রয়োগ, কেন তাঁকেই বাছা হল জেনে নিন

Bangla 24×7 Desk: ১৫ ই আগস্টে কো-ভ্যাক্সিন আদৌ ভারতের বাজারজাত হবে কি না, তা এখনও দোলাচলে। কিন্তু তার আগেই ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য দরকার মানব শরীর। স্বেচ্ছাতেই এগিয়ে আসা ব্যক্তির দেহে অন্যান্য রোগ আছে কি না তা পরীক্ষার পরই তার দেহে কো-ভ্যাক্সিন প্রয়োগের ছাড়পত্র মিলবে। ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজে এগিয়ে এসেছেন দুর্গাপুরের শিক্ষক চিরঞ্জিত ধীবর। কিভাবে মানসিক প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি ?

চিরঞ্জিত ধীবর, যিনি আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁর শরীরে ভারত বায়োটেক ও ICMR এর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত কোভিড-১৯ এর প্রতিষেধক কো-ভ্যাক্সিন প্রয়োগের। ICMR এর তরফ থেকে ফোন করে তাঁর আবেদন  মঞজুরের খবর জানানো হয়। তাঁর থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, ভুবনেশ্বরের এক বেসরকারি হাসপাতালে এই পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হবে তাঁর শরীরে।

সমস্ত প্রোটোকল মেনেই ট্রায়ালে নেওয়া হবে আর তার জন্য লাগবে বেশ কিছু দিন। ICMR-এর বিজ্ঞানী ড. সমীরণ পান্ডা চিরঞ্জিতকে মানসিকভাবে প্রস্তুতও থাকতে বলেছেন। এই ক্লিনিকাল ট্রায়ালের জন্য চিরঞ্জিতকে  মোট ৬ দিন হাসপাতালে যেতে হবে।

ঝুঁকিপূর্ণ কাজ জেনেও ছেলের জন্য আপ্লূত চিরঞ্জিতের পরিবার। দেশবাসীর সেবার ইচ্ছা থেকেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তিনি।তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস যে শারীরিক সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবেন এবং সব বাধা অতিক্রম করে দেশের মানুষকে করোনা থেকে মুক্তির পথ দেখাতে নিজের শরীরের উপর প্রয়োগ করাবেন কো-ভ্যাক্সিন।

মানুষের জন্য ছেলের এই ত্যাগ নিয়ে তাঁর মা প্রতিমা দেবীর প্রথম প্রথম দুশ্চিন্তা থাকলেও এখন তিনি পুরোপুরি ভাবে চিন্তামুক্ত। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস তাঁর ছেলে যে দুঃসাহসিক কাজে যাচ্ছে তার জন্য সারা দেশের আশীর্বাদ আছে তাঁর ছেলের সাথে ।

সম্বল ৩০ বছর ধরে তিল তিল করে বুকের মধ্যে জমিয়ে রাখা সাহস, সাথে পরিবার সহ সহকর্মীদের ভালবাসা আর নিজের উপর অদম্য বিশ্বাসের জোরে চলেছে এক অজানা ভবিষ্যৎ এর পথে। কো-ভ্যাক্সিন তাঁর জীবনে আনবে কোনো সুফল নাকি অন্ধকারের জগতে যেতে চলেছে তাঁর জীবন?

Follow Me:

Related Posts