রাজ্য

গোপন ডেরায় অভিযান চালিয়ে ফলতার শুটআউট কান্ডে তিন দুষ্কৃতিকে গ্রেপ্তার করল জেলা পুলিশ

Bangla 24×7 Desk : গত সপ্তাহের বুধবার দুপুরে ডায়মন্ড হারবারের ফলতা থানার বড়খালি এলাকায় দিনে দুপুরে স্থানীয় একটি কেক কারখানার শ্রমিক ঠিকাদার গৌরাঙ্গ কয়ালকে (৪৯) পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালিয়ে চম্পট দেয় দুস্কৃতীরা। হাসপাতালে নিয়ে আসার পথেই মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন তিনি। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায় ঘটনার দিন সকাল ১১টা নাগাদ বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ছিলেন গৌরাঙ্গ। কারখানার শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য স্থানীয় একটি ব্যাংকে যান টাকা তুলতে। আনুমানিক দেড়টা নাগাদ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ফেরার পথে বড়খালি হাইস্কুলের কাছে অজ্ঞাত পরিচয় দুস্কৃতী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। বুকে গুলি লাগায় বাইক থেকে রাস্তার উপর ছিটকে পড়তেই দুস্কৃতীরা তাঁর টাকার ব্যাগ ও মোবাইল ফোন নিয়ে চম্পট দেয়। স্থানীয়রা গুলির শব্দ ও তাঁর চিৎকার শুনে ছুটে এসে দেখেন রাস্তার উপরেই পড়ে ধুকছেন তিনি। তড়িঘড়ি রক্তাক্ত অবস্থায় গৌরাঙ্গকে উদ্ধার করে ডায়মন্ড হারবার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাঁকে ‘মৃত’ ঘোষণা করেন।

এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃত এবাদুল মোল্লা, নাজিবুদ্দিন দপ্তরী ও মোস্তাক সেখ। ধৃতরা ফলতা, ডায়মন্ড হারবার ও রামনগর থানা এলাকার বাসিন্দা। সোমবার ধৃতদের ডায়মন্ড হারবার এসিজেএম আদালতে তোলা হলে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। খুনের ঘটনা ঘটার পর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তকারী টিমে ছিলেন অ্যাডিশনাল পুলিশ সুপার (জোনাল) সন্দীপ সেন, ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও শান্তনু সেন, ফলতা থানার আইসি রামেশ্বর ওঝা ও কেসের আইও। ঘটনার তদন্তে নেমে তদন্তকারী অফিসাররা জানতে পারেন খুন হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগে এলাকায় বাইক নিয়ে রেইকি করে যায় ধৃত এবাদুল। তারপর ব্যাংক থেকে বেরোনোর পর গৌরাঙ্গ কয়ালের পিছু নেয় সে। পরে তার সঙ্গে যোগ দেয় নাজিবুদ্দিন ও মোস্তাক। ফাঁক বুঝে পয়েন্ট কাজ ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে গৌরাঙ্গ কয়ালকে গুলি করে টাকার ব্যাগ ও মোবাইল ফোন নিয়ে চম্পট দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখ থেকে খুনের আগে বাইক নিয়ে চক্কর দেওয়ার ঘটনা জানতে পারেন তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা।

এবাদুলের খোঁজ খবর শুরু করতেই জানা যায় একাধিক অসামাজিক কাজে লিপ্ত আছে সে। এরপর পুলিশ এবাদুলকে গ্রেফতার করে। তাকে জেরা করে দুজনকেও গ্রেফতার করা হয়। তবে এই খুনের পিছনে অন্য কেউ রয়েছে বলে পুলিশের অনুমান। ধৃতদের জেরা করে তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তবে খুনের পর ছিনিয়ে নেওয়া টাকার ব্যাগ, মোবাইল এবং ব্যবহৃত অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি। সোমবার ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডঃ ভোলানাথ পান্ডে সাংবাদিক সম্মেলন করে পুরো বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার ডঃ ভোলানাথ পান্ডে জানান , ” গৌরাঙ্গ কয়ালকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে অ্যাটাক করা হয়েছিল । পরবর্তীকালে ডায়মন্ড হারবার হাসপাতালের নিয়ে এলে চিকিৎসকরা তাঁকে ‘মৃত’ ঘোষণা করেন। ঘটনায় ৩০২ , ২৫ ও ২৭ অস্ত্র আইনে কেস আরম্ভ করে তদন্ত শুরু হয়েছিল । অ্যাডিশনাল পুলিশ সুপার (জোনাল) সন্দীপ সেন, ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও শান্তনু সেন, ফলতা থানার আইসি রামেশ্বর ওঝা ও কেসের আইও কে নিয়ে টিম গঠন হয়েছিল । সমস্ত রকম সোর্স কাজে লাগিয়ে টাকলা , নাজিমুদ্দিন দপ্তরি ও বাবুসোনা বলে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে প্রায় তিয়াত্তর হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে । ধৃতদের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত চেয়ে ডায়মন্ড হারবার মহামান্য এসিজেএম আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে । ”

Follow Me:

Related Posts