দেশ

অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় কারাবাস কোনও নতুন ও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় , সফুরার জামিন খারিজ করার সপক্ষে যুক্তি দিল দিল্লি পুলিশ

Bangla 24×7 Desk : তিনি জামিয়া মিলিয়ার গবেষক সফুরা ‘জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটি’রও সদস্যা। পাশাপাশি তিনি জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিসার্চ স্কলার এবং ছাত্র আন্দোলনের পরিচিত মুখ। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে বারবার বিরোধিতা করেছেন । আন্দোলনের নামে দিল্লিতে হিংসায় ইন্ধন দিয়েছেন ।

তিনি আর কেউ নন । তিনি যুব নেত্রী সফুরা জারগর। দাঙ্গায় একজন ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অভিযুক্ত সফুরা। গত ১০ ই এপ্রিল তাঁকে গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা কাশ্মীরের মেয়ে সফুরাকে সন্তানকে গর্ভে নিয়েই কারাবাসে যেতে হয় । তিহার জেলে বন্দি সফুরার বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন প্রয়োগ করেছে পুলিশ ।

দিল্লির পাটিয়ালা হাউস কোর্টের জামিন খারিজের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সম্প্রতি দিল্লি হাইকোর্টে নতুন করে সফুরার জামিনের আর্জি জানিয়েছিলেন সফুরার আইনজীবী। মানবিকতার কারণে ও স্বাস্থ্যের কারণে তাঁর জামিনের জন্য আবেদন করেন সফুরার আইনজীবী । কিন্তু দিল্লি পুলিশ জামিন বাতিলের দাবিতে আদালতে জানায় , অন্তঃসত্ত্বা বলেই যে কোনও অপরাধীকে জামিন দিতে হবে, এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। বিগত ১০ বছরে দিল্লির তিহাড় জেলে ইতিমধ্যেই ৩৯ জন মহিলা সন্তান প্রসব করেছেন। তাঁদের সন্তানের জন্ম ধারনে কোনও রকম অসুবিধা হয়নি ।

দিল্লি পুলিশ আরও জানায় যে , ” গর্ভবতী হলে জেলবন্দি থাকা যাবে না এমন উল্লেখ নেই ভারতের সংবিধানে । জেল হেফাজতে থাকাকালীন অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং চিকিৎসার সুবিধার কথা বলা রয়েছে। ”

গর্ভবতী তরুণী সফুরার বন্সোদি থাকা নিয়ে সোচ্চার হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া । যদিও দিল্লি পুলিশ সফুরার বিরুদ্ধে আনা ষড়যন্ত্র করে হিংসা ছড়ানোর অভিযোগের এখনও কোনও প্রমাণ দিতে পারেনি । তাঁকে তিহার জেলে রাখা নিয়েও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে । কারণ করোনা আবহের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বন্দি রয়েছে তিহার জেলে ।

যদিও এই বিষয় দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে , সফুরার স্বাস্থ্যের বিষয়টি কোনও ভাবেই সমস্যার মুখে পড়ছে না। জেলের মধ্যে সফুরাকে আলাদা কুঠুরিতে রাখা হয়েছে। পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হচ্ছে তাঁকে, চিকিৎসক এসে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করছেন ।

Follow Me:

Related Posts