অফবিট দেশ

“একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি / হাঁসি হাঁসি পরবো ফাঁসি / দেখবে জগৎবাসী ” – শহীদ বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বোসে’র প্রয়াণ বার্ষিকীতে শ্রদ্ধার্ঘ্য

Khudiram Bose

Bangla 24×7 Desk : ‘একবার বিদায় দে মা ঘুরে আসি / হাঁসি হাঁসি পরব ফাঁসি / দেখবে জগৎবাসী ‘ – মহান এই উক্তিটি শুনলেই ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক জ্বলন্ত অগ্নিশিখার কথা আমাদের স্মরণে আসে l সেই জ্বলন্ত অগ্নিশিখা আর কেউ নন , ভারত মায়ের বীর সন্তান শহীদ বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু l

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ শহীদ বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু ১৮৮৯ সালের ৩ রা ডিসেম্বর পঃ বঃ এর মেদিনীপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন l পিতা ত্রৈকল্যনাথ বসু ও মাতা লক্ষ্মীপ্রিয়া দেবীর কোল আলো করে এসেছিলেন ছোট্ট ক্ষুদিরাম l কিন্তু শৈশবে পিতা ও মাতাকে হারানোর পরে নিজের বড় দিদি অপরুপা রায়ের বাড়িতে চলে এসেছিলেন তিনি l পড়াশোনা করার জন্য ছোট্ট ক্ষুদিরামকে তমলুক হ্যামিল্টন হাইস্কুলে ভর্তি করেন তাঁর জামাইবাবু অমৃতলাল রায় l

অত্যাচারী ইংরেজ শাসক কিংসফোর্ডকে হত্যার ভার পরে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকীর উপরে l প্রথমে পুস্তক বোমা দিয়ে কিংসফোর্ডকে হত্যার পরিকল্পনা করা হলেও ভাগ্যের জোড়ে বেঁচে যান তিনি l ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল তাঁদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতি হয়েছিলেন l কিন্তু অজান্তে এই হামলায় মারা যান মিস কেনেডি ও মিসেস কেনেডি l তাঁরা কিংসফোর্ডের গাড়িতে ছিলেন l বোমার আঘাতে গুরুতর আহত হন তাঁরা l এই ঘটনার জেরে গ্রেপ্তার হন ক্ষুদিরাম বসু l কিন্তু আরেক বিপ্লবী প্রফুল্ল চাকী ইংরেজ সরকারের হাতে নিজেকে সঁপে দেননি l রিভলবার দিয়ে নিজেকে শেষ করে দিয়েছিলেন l

গ্রেপ্তার করে ক্ষুদিরাম বসুকে আদালতে পেশ করা হলে মামলার রায়দানে ক্ষুদিরাম বসুকে দোষীকে সাব্যস্ত করে আদালত l গভর্নর জেনারেলের কাছে ক্ষুদিরামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনটি সংক্ষেপে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। বিপরীতে ১৯০৮ সালের ১১ আগস্টের মধ্যে সর্বশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আদেশ আসে।

বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু ছিলেন ভারতের কনিস্ঠতম বিপ্লবী l অবশেষে ১১ ই আগস্ট ১৯০৮ সালে বিপ্লবী মাত্র ১৮ বছর বয়সে নিজের দেশ মাতৃকাকে স্বাধীন করার লক্ষ্যে মুখে হাঁসি নিয়ে ফাঁসির দড়ি পরিধান করে নিয়েছিলেন l

Follow Me:

Related Posts