রাজ্য

দলে দলে ফিরছে পরিযায়ী শ্রমিকরা , আমফান বিধ্বস্ত সুন্দরবনের মানুষের কাছে এখন নতুন আতঙ্ক ‘করোনা’

Bangla 24×7 Desk : আমফানের আঘাতে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ব্যপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে । ক্যানিং মহকুমার গোসাবা ,বাসন্তী সহ কুলতলী , জয়নগর এলাকার অধিকাংশ জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন , নেই বিদ্যুৎ সংযোগ । পরিস্থিতি ঠিক কবে স্বাভাবিক হবে তার সঠিক উত্তরের অপেক্ষায় এই সকল এলাকায় বসবাসকারী মানুষজন l এমন অবস্থায় সুন্দরবনের মানুষের নতুন আতঙ্ক হল করোনা ।

জানা গেছে , সুন্দরবন কাঁপছে করোনা জ্বরে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনের শরীরে মিলেছে করোনা ভাইরাসের সন্ধান। দলে দলে পরিযায়ী শ্রমিকেরা গ্রামে ফেরার পরেই করোনা তার সংক্রমণের গতি বাড়িয়েছে । মহারাষ্ট্র , দিল্লি , হায়দ্রাবাদ থেকে ফিরছেন এই সকল পরিযায়ী শ্রমিকরা। রীতিমত গাড়ি ভাড়া করে সরকারি নির্দেশকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গ্রামে প্রবেশ করছেন তাঁরা । তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ উপসর্গযুক্ত আবার কেউ উপসর্গহীন । সঠিক ভাবে চিকিৎসা না করিয়ে হোম কোয়েরেনটাইনে না থেকে যত্রতত্র ঘুরে বেড়াচ্ছেন । এমনকি ত্রানের লাইনে দাঁড়াতে অথবা বাজার করতেও পিছপা হচ্ছেন না কেউ । যার ফলে স্থানীয় মানুষের সাথে গোলমাল বাঁধছে । যার ফলে গোষ্ঠী সংক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে । এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্ক দানা বেঁধেছে এলাকাবাসীর মনে ।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে , গোসাবা সহ বাসন্তী , ক্যনিং এর একাধিক ব্লকে করোনার সন্ধান মিলেছে । গোসাবা ব্লকে ১টি , বাসন্তীতে ২টি , ক্যানিং ১ নম্বর ব্লকে পাঁচটি ও ক্যানিং ২ নম্বর ব্লকের চারটি করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয় , সংক্রমণ ছড়িয়েছে কুলতলী, পাথরপ্রতিমা , জয়নগর , কাকদ্বীপ সহ বিভিন্ন এলাকায়। এই বিষয় ক্যানিং মহকুমার অতিরিক্ত স্বাস্থ্য অধিকর্তা প্রবীর কুমার হালদার জানান , “ কয়েকজনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে । স্বাস্থ্য বিধি মেনে আমরা সমস্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি ” । আরও কয়েজনের রিপোর্টের অপেক্ষায় আছে প্রশাসন ।

জলে কুমির , ডাঙায় বাঘ এবং সারা বছরই প্রকৃতির খামখেয়ালি মনোভাব , জীবিকা নির্বাহ ও বাঁচার তাগিদে প্রতিটা মুহূর্তে বিপদসংকুল পরিবেশের সাথে দিনযাপন করা সুন্দরবনের মানুষের কাছে নতুন আতঙ্ক এখন করোনা ভাইরাস।

Follow Me:

Related Posts