মহানগর রাজ্য স্বাস্থ্য

লকডাউনের মাঝে হার্ট প্রতিস্থাপনের নজির গড়ল মেডিকা হাসপাতাল

Bangla 24×7 Desk : লক ডাউনের মধ্যেও শহরে আবার অঙ্গদানের নজির !! করোনা দুর্যোগের মধ্যেও তাই কলকাতা সাক্ষী রইল হার্ট প্রতিস্থাপনের। পঁয়তাল্লিশের শরীরে বসল সতেরো বছরের কিশোরের হার্ট। ঠিক কি হয়েছে আসুন জেনে নেওয়া যাক ।

নদীয়ার দেবগ্রামের বাসিন্দা অমিত কুমার দে। কিছুদিন আগে তাঁর ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয় । ইসকেমিক কার্ডিও মায়োপ্যাথির শিকার হন অমিতবাবু। কল্যাণীর একটি হাসপাতালে প্রায় দশ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তারপর আসেন কলকাতার মেডিকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। সেখানে ডাঃ কুনাল সরকারের অধীনে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয় । ক্রমশঃ ডাঃ সরকার বুঝতে পারেন অমিত কুমার দে কে বাইপাস বা অন্য কোন চিকিৎসা করে সুস্থ করা যাবে না । তাই তিনি হার্ট প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন । কুণালবাবুই ‘ রিজিওনাল অর্গান ট্রান্সপ্ল্যান্ট অর্গানাইজেশন ’ এ অমিতবাবুর নাম নথিভুক্ত করেন। 

পাটনার ‘ইন্দিরা গান্ধী মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট অফ পাটনা’য় পথ দুর্ঘটনায় জখম এক কিশোরের ব্রেন ডেথ হয়েছে বলে জানা যায় । রোগীর পরিবার অঙ্গদানে রাজি হয়েছে। ১৮ ই মার্চ ভোরবেলা মেডিকার নয় জন সদস্যের একটি দল পাটনার ‘ ইন্দিরা গান্ধী মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট অফ পাটনায়’ যান । ক্যাসকেড বক্সে করে আনা হার্ট প্রায় দুপুর দেড়টা নাগাদ পাটনা বিমান বন্দরে পৌছয় ।

বেলা তিনটে নাগাদ ডাঃ কুনাল সরকারের নেতৃত্বে অমিত বাবুর অপারেশন শুরু হয় । কুণাল বাবুকে যোগ্য সঙ্গত করেন ডাঃ অর্পণ চক্রবর্তী , ডাঃ দীপাঞ্জন চট্টোপাধায় , ডাঃ সন্দীপ সরদার , ডাঃ সৌম্যজিত ঘোষ । দুই ঘণ্টার কম সময়ে পাটনা থেকে কলকাতার মেডিকা হাসপাতালে সফল হার্ট প্রতিস্থাপন করা হয়।

কুণালবাবু জানিয়েছেন , এমন উদ্যোগ মেডিকাতে প্রথম । রোগীর আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই অপারেশন করা হয়েছে । অস্ত্রোপচারের পর দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন অমিতবাবু। সোমবার তিনি জানান , ডাঃ কুণাল সরকার অন্য সবার জন্যই নতুন জীবন পেলাম। হাসপাতালের তরফে তাঁকে তিন মাসের ওষুধ দেওয়া হয়েছে ।

Follow Me:

Related Posts