রাজ্য

ভালবাসার বিয়ের টিকলো না এক বছর , পণের দাবি নিয়ে বধূকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারল শ্বশুরবাড়ির লোকজন

Bangla 24×7 Desk : রাজগঞ্জের কালীনগর এলাকার বাসিন্দা জয়দেব বালার সঙ্গে সংসার করার স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি ছেড়েছিল রাজগঞ্জ ব্লকেরই জহুরি তালমা এলাকার বাসিন্দা নম্রতা বিশ্বাস। কিন্তু তাঁদের ভালোবাসার বিয়ে টিকলো না এক বছরও। যৌতুক নেওয়ার পরেও নিত্যদিনের পনের চাহিদা মেটাতে না পারায় নববধূকে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে। মৃতার নাম নম্রতা বালা (১৮) । ঘটনার পর থেকে শ্বশুর বাড়ির সবাই পলাতক ।

বিয়েতে ছেলের পরিবারের দাবি মতো গহনা ও আসবাবপত্র সহ চার লক্ষ টাকার সামগ্রী দিয়েছিল কনের পরিবার। বিয়ের কয়েকদিন পর থেকে প্রতিদিন নতুন নতুন পনের দাবিতে শ্বশুরবাড়িতে নম্রতার উপর অত্যাচার শুরু হয় বলে অভিযোগ। দিনের পর দিন খেতে না দেওয়ার পাশাপাশি চলত অত্যাচার। 

বৃহস্পতিবার দুপুর দু’টো নাগাদ মেয়ের শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন পান নম্রতার বাবা নরেন বিশ্বাস। জানানো হয় তাঁর মেয়ে গায়ে আগুন দিয়েছে। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে নম্রতার বাড়ির লোকজন তাঁর শ্বশুরবাড়িতে যান। এরপর তারা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে মেয়েকে নিয়ে শিলিগুড়ির এক বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করান। সেখানেই মৃত্যু হয় নম্রতার। অন্ত্যেষ্টি শেষ করে শুক্রবার বিকেলে রাজগঞ্জ থানায় নম্রতার স্বামী সহ পরিবারের মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নরেনবাবু।

গাড়ি সহ অন্যান্য নতুন নতুন দাবি নিয়ে আমার মেয়েকে ক্রমাগত চাপ দেয় ওরা। আমি না দিতে পারায় জামাই মদ খেয়ে এসে প্রায় প্রতিদিন মেয়েকে মারধর করত। সঙ্গে বাড়ির অন্যান্যরাও মারধর করত তাকে। আমার মেয়ে মারা যাওয়ার আগে আমাকে বলে গেছে তাঁকে হাত পা বেঁধে গায়ে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়। এমনটাই জানিয়েছেন নরেন বাবু ।

অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান নম্রতার ও জয়দেবের প্রতিবেশীরা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

 

Follow Me:

Related Posts