দেশ বিনোদন হলি বলি টলি

সরোজ খানের যাত্রা মহাশূণ্যের পথে, শোকস্তব্ধ সমগ্র কলাকুশলীরা

Bangla 24×7 Desk : প্রচলিত আছে ‘ বিষে বিষক্ষয় ‘ কিন্তু এই বিশ ক্রমশ বিষ হয়ে উঠেছে সমগ্র বিশ্বের কাছে। করোনা আবহে বেসামাল হয়ে উঠেছে সমগ্র দুনিয়া । বিরাম নেই বলিউডের নক্ষত্র পতনেও। ২০২০ সালে হারাতে হয়েছে বহু তারকাকে। আজও বলিউডের কোরিওগ্রাফি দুনিয়ার এক প্রকার ইন্দ্রপতন ঘটল। ৯০ এর দশকের বলিউডের নায়ক নায়িকাদের গানের তালে পা মেলাতে যে মানুষটির অবদান অনস্বীকার্য তিনি আর কেউ নন কোরিওগ্রাফার সরোজ খান।

বলিউডের স্মৃতিপটে আঁকা হয়ে রইল নির্মলা নাগপালের সরোজ খান হয়ে ওঠার গল্প। সরোজ খান ৯০ এর দশকের একজন দাপুটে কোরিওগ্রাফার , যাকে ছাড়া কোনো নায়িকাই গানের ছন্দে পা মেলাতে চাইতেন না। বহু তারকা তাঁদের সাক্ষাতকারে বলেছেন , তাদের নাচের মুভস গুলি এত জনপ্রিয় হবার পিছনে রয়েছে সরোজ খানের অবদান। শুরুটা কিন্তু তাঁর ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হিসাবে। ১৯৫০ এর দশকে তাঁর পা পড়ে বলিউডের জগতে। নায়ক নায়িকাদের পিছনে থাকা মুখটি নিজের দক্ষতার জোরে হয়ে ওঠেন বলিউডের মাস্টারজি।

১৯৪৮ সালের ২২ শে নভেম্বরে জন্মানো সেই ছোট্টো মেয়েটির স্বাধীনচেতা মনোভাবই তাঁকে বলিউডের একজন সফল স্বাধীন কোরিওগ্রাফার হতে সাহায্য করে। ১৯৮৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’ , ১৯৮৬ সালের ‘নাগিনা’ , ১৯৮৯ সালে ‘চাঁদনি’ , ১৯৮৮ সালে ‘তেজাব’ , ১৯৯০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘থানেদার’ প্রতিষ্ঠিত করে বলিউড জগতে মাস্টারজি সরোজ খানের নাম। DDLJ কিংবা ‘দেবদাস’ ,শাহিদ কাপুরের যব উই মেট বা বলিউডের ক্যুইন কঙ্গনার মণিকর্নিকার মতো ছবিতে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ২০০৫ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ বছর অলংকৃত করেছিলেন ছোটো পর্দার বিভিন্ন ড্যান্স রিয়্য়ালিটি শো গুলিতে। খুশি হলেই অংশগ্রহণকারীকে সম্মান জানাতে হাতে তুলে দিতেন নগদ টাকা।

মুম্বাই-এ থাকতেন স্বামী ও দুই মেয়েকে নিয়ে। ৭১ বছর বয়সী এই কিংবদন্তী শিল্পীর হঠাৎই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় , ভর্তি করা হয় হাসপাতালে । করোনা পরীক্ষাতে নেগেটিভ আসায় স্বস্তি মেলে পরিবারের লোকজনের। তবে দুঃখের বিষয় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যাত্রা করলেন মহাশূণ্যের পথে। ট্যুইটার ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় শোক প্রকাশ করেছেন সমস্ত কলাকুশলীরা ও বিশিষ্ঠ মানুষেরা। শোকস্তব্ধ আমরাও । তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা রইল আমাদের অন্তর থেকেও।

Follow Me:

Related Posts