দেশ

কেরলে অমানবিক ছবি !! সংক্রমণের আশঙ্কায় অ্যাম্বুল্যান্স চালক জল পেলো না

Bangla 24×7 Desk : দেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। যেভাবে এই ভাইরাস তার গতি নিয়ে এগোচ্ছে তাতে এই ভাইরাসের প্রভাবে দেশ জুড়ে চাপা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে । এমন অবস্থায় খুবই চিন্তামগ্ন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক l

এরই মধ্যে আমাদের দেশের দক্ষিণের রাজ্য কেরালায় ঘটল অমানবিক ঘটনা । করোনা সংক্রমণ থকে দেশকে বাঁচাতে দিন রাত এল করে প্রাণপণ খেটে চলেছেন চিকিৎসক , নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীরা । কিন্তু এক শ্রেণির মানুষের কথা না বললে হয়ত তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়া যাবে না । তাঁরা হলেন অ্যাম্বুল্যান্স চালকরা । কিন্তু এবার তাঁদের ঘটল চরম অমানবিক ঘটনা ।

দিন রাত এক করে এই চালকরা তাঁদের গাড়িতে করে রোগীদের পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন । নিজের পরিবারের সাথেও যোগাযোগ করার কন উপায় নেই । তাতে সংক্রমণের ভয় !! তাই একমাত্র ভরসার জায়গা হল ফোন । এক টানা আঠোরা ঘণ্টা কাজ করেও সমাজের অধিকাংশ মানুষের  চোখে বঞ্চনার পাত্র এই চালকরা। সমাজের কুসংস্কারের জেরে সমস্যার মুখে অ্যাম্বুল্যান্স চালকরা। সামান্য চা-জল চেয়ে তাই পেলেন না অ্যাম্বুল্যান্স চালক ।

কেরল সরকারের তরফ থেকে দেওয়া ১০৮টি অ্যাম্বুল্যান্সই সরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত। এই গাড়িতে একটা বিশ্রাম নেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে। প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা করে প্রতিটি গাড়িকে কাজ করতে হবে। মাসে মোট কাজের দিন হবে ২৬। যেহেতু এই চালকরা জরুরী ভিত্তিতে কাজ করেন তাই প্রয়োজনে তাদের বিমান বন্দর থেকেও রোগীদের নিয়ে আসতে হতে পারে হাসপাতালে। প্রয়োজনে নিয়ে যেতে হয় কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে।

করোনা আক্রান্তদের যাঁরা পৌঁছে দিচ্ছেন হাসপাতালে তাদের জল বিক্রি করতে চাইছে না খাবারের দোকানগুলি। এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায় , “ কেরলের এক অ্যাম্বুল্যান্স চালক সামান্য চা চাইলে তাঁকে চা বিক্রি করতে রাজি হননি দোকানি। তার কিন্তু একতাই কারন । শুধুমাত্র করোনা আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসবার জন্য তাঁদের এইভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে।” যা কিন্তু মোটেও সমাজের প্রতি ভালো বার্তা নয় । মানুষের স্বার্থে নিজেদের জীবন বিপন্ন করে যারা কাজ করে চলেছেন দিনের পর দিন তাদের হেনস্তা করা হলে তাদের মনোবল ভেঙে যেতে পারে। ফলে ক্ষতির মুখে পড়বে সমাজই।

আজকের সমাজে শুধু করোনা মোকাবিলায় নয় , অন্য যে কোন ব্যপারে ( রোগীর হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে রোগীর সুস্থ হওয়া পর্যন্ত ) পুরো কর্মকাণ্ডে একজন চিকিৎসক , নার্স , স্বাস্থ্য কর্মীদের ঠিক যতটা কৃতিত্ব থাকে ঠিক তততাই থাকে একজন অ্যাম্বুল্যান্স চালকের । কারন তিনি যদি সঠিক সময় রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে না পৌঁছন তাহলে রোগীর সুস্থ হওয়া তো দুরের কথা , রোগী নাও বাঁচতে পারে । তাই সম্মানটা তাদের প্রাপ্য ।  

Follow Me:

Related Posts