দেশ

আতঙ্কের মধ্যেই কোন পদক্ষেপে করোনা জয় ভিলওয়ারার !! জেনে নিন

Bangla 24×7 Desk : নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সারা দেশে লক ডাউন চলছে l আগামী ১৪ ই এপ্রিল পর্যন্ত লক ডাউন জারি রয়েছে l দেশ জুড়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫০০০ ছাড়িয়েছে l এর মধ্যেই মারাও গিয়েছেন অনেক l সুস্থ হয়েছেন বেশ কিছুজন l কিন্তু সবচেয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য হল এরই মধ্যে মৃতের সংখ্যা দেড়শো পার হয়েছে । কি হবে এর ভবিষ্যৎ তা নিয়ে চিন্তার কিন্তু শেষ নেই ।

কিন্তু এত চিন্তার মধ্যেও আশার আলো দেখিয়েছে রাজস্থানের ভিলওয়ারা গ্রাম । করোনা আক্রান্তের উর্ধ্বগামী সংখ্যা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রককে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল রাজস্থানের ভিলওয়ারা। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই চিত্রতা সম্পূর্ণ বদলে গেল । এই বদলের পিছনে কাজ করেছে জেলা প্রশাসনের কঠোর মনোভাব । কিভাবে হল এই অসাধ্য সাধন !!!! আসুন জেনে নেওয়া যাক ।

জয়পুর থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ভিলওয়ারা গ্রাম । গত ১৮ ই মার্চ সেখানে প্রথম করোনা আক্রান্তের খোঁজ পাওয়া যায় । মাত্র ১২ দিনের মধ্যে সংখ্যা তা গিয়ে দাঁড়ায় ২৬ । যে হারে ভিলওয়ারার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল , তা কিন্তু ভয় পেয়ে যাওয়ার মতোই ছিল।

কিন্তু তার পরের ঘটনা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ । সেখানে ঘটল একেবারে উলটপুরাণ। গত ৩০ শে মার্চ থেকে ৬ ই এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ১ জনের সংক্রমণের খবর গিয়েছে । যা থেকে কিন্তু সচেতনতার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে । কিন্তু কীভাবে এমন অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলল ভিলওয়ারা গ্রাম ????

সূত্রের খবর , পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে ভিলওয়ারা গ্রামে কার্ফু জারি হয়। কঠোর লকডাউন ও আইসোলেশনই সাফল্যের মূল মন্ত্র। ভিলওয়ারায় যাতে গোষ্ঠী সংক্রমণ না শুরু হয়, তার জন্য কঠোর হাতে ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। প্রত্যেক করোনা আক্রান্ত কোথায় কোথায় গেছেন, কাদের সংস্পর্শে এসেছেন, তাঁরা আবার কাদের সংস্পর্শে এসেছেন তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন নিজ উদ্যোগে বাড়ি বাড়ি রেশন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পৌঁছে দিচ্ছেন ।

প্রশাসন নিয়োজিত স্বাস্থ্যকর্মীরা শহরাঞ্চলে ২ লাখের উপর বাড়ি গিয়ে গিয়ে ১০ লাখ মানুষের পরীক্ষা করেন।  স্বাস্থ্যকর্মীদের দলে দলে পাটিয়ে জেলার সকলের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো হয়। নজরে রাখা হয় সেখানকার একটি বেসরকারি হাসপাতালকে, যেখানে ১৭ জন চিকিৎসক কোভিড – ১৯ আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেই হাসপাতাল সিল করে দেওয়া হয় এবং সেখানকার সব মেডিক্যাল স্টাফদের আইসোলেশনে পাঠানো হয়। শহরের মধ্যে ১ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কনটেনমেন্ট জোন করা হয়।

রাজস্থানের স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে , ভিলওয়ারার পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্ফু জারি করা , গণপরিবহণ ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও জেলার সীমানা সিল করে দেওয়াই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জেলার বর্ডার সিল করে ২৭ টি পুলিশ চৌকি বসানো হয়। দেড় হাজার জনকে কোয়ারেন্টিন করা হয়। এখনও সেখানে ৭০০ অধিক মানুষ কোয়ারেন্টিন আছেন ।

এই ভাবেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে ফিরে এসেছে রাজস্থানের ভিলওয়ারা গ্রাম। দেশের মধ্যে করোনা আক্রান্ত অন্যান্য এলাকাগুলিকে এই ফর্মুলাতেই এগনোর পরামর্শ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।

Follow Me:

Related Posts