দেশ

অবশেষে বিচার পেলেন দিল্লীর ”নির্ভয়া” মৃত্যুদণ্ড হল চার ধর্ষকের

Bangla 24×7 Desk : দিল্লী গণধর্ষণ কাণ্ড !!!! যে ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছিল গোটা দেশকে । ২০১২ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর রাতের ঘটনায় তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল গোটা ভারতবর্ষ । দেশবাসীর ক্ষোভ জ্বলন্ত অগ্নি পিণ্ডের মতো আছড়ে পড়েছিল গোটা দেশে । অবশেষে বিচার পেলেন দিল্লীর  ”নির্ভয়া” । দীর্ঘ ৭ বছরের বেশী সময় ধরে চলা বিচার প্রক্রিয়ার পর দোষী সাব্যস্ত হয় চার আসামী । আজ ভোরে তাদের মৃত্যুদণ্ড হয় তিহার জেলে । ঠিক কি হয়েছিল ১৬ ই ডিসেম্বরের সেই অভিশপ্ত রাতে আসুন জেনে নেওয়া যাক ।  

১৬ ই ডিসেম্বর ২০১২ রাতে দক্ষিণ দিল্লির মুর্নিকায় নারকীয় অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন ২৩ বছরের প্যারা মেডিকেল ছাত্রী ও তার বন্ধু । চলন্ত বাসের মধ্যে গণধর্ষনের শিকার হন ঐ ছাত্রী । তার বন্ধুর ওপরেও অত্যাচার করা হয় । এই নারকীয় অত্যাচারে সামিল হয় রাম সিং , মুকেশ সিং , অক্ষয় ঠাকুর , বিনয় শর্মা , পবন গুপ্তা  ও একজন নাবালক অপরাধী । বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন জেলের মধ্যে আত্মহত্যা করে রাম সিং ও নাবালক অপরাধী ছাড়া পায় ।

গুরুতর জখম অবস্থায় নির্যাতিতাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় এগারো দিন পরে তাঁকে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে নিয়ে গেলেও মৃত্যুর সাথে লড়াই করে দুদিন পরে তিনি মারা যান ।

মহিলাদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে বিক্ষোভ সংগঠিত হয় । এই নিন্দনীয় ঘটনায় বিশাল পরিমান নিন্দার ঝড় ওঠে দেশে ও বিদেশে ।

প্রতিবাদের ফলস্বরূপ , ২০১২ সালের ডিসেম্বরে , যৌন অপরাধীদের দ্রুত তদন্ত এবং বিচারের ব্যবস্থা করার জন্য আইন সংশোধন করার সর্বোত্তম উপায়গুলির জন্য অধ্যয়ন ও সর্বজনীন পরামর্শ গ্রহণের জন্য একটি জুডিশিয়াল কমিটি গঠন করা হয়। প্রায় ৮০,০০০ পরামর্শ বিবেচনা করার পরে কমিটি একটি প্রতিবেদন দাখিল করে যা নির্দেশ করে যে সরকার ও পুলিশদের ব্যর্থতা হল মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মূল কারণ। ২০১৩ সালে , প্রনব মুখার্জি দ্বারা ফৌজদারি আইন (সংশোধন) অধ্যাদেশ , ২০১৩ প্রবর্তন করা হয়েছিল , বেশ কয়েকটি নতুন আইন পাস করা হয়েছিল এবং ধর্ষণের মামলার শুনানির জন্য ছয়টি নতুন দ্রুতগতির আদালত তৈরি করা হয়েছিল।

সমালোচকদের যুক্তি ছিল যে ধর্ষণ মামলার শুনানি ও মামলা চালানোর জন্য আইনী ব্যবস্থাটি ধীর রয়ে গেছে , তবে বেশিরভাগই সম্মত হন যে এই মামলাটি নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের জনসমক্ষে আলোচনার ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পরিসংখ্যানগুলি দেখায় যে সেখানে নারীদের ইচ্ছুক সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে একটি অপরাধ রিপোর্ট দায়ের করতে। 

দীর্ঘ সাত বছরের বেশি সময় ধরে বিচার প্রক্রিয়া চলার পর চার আসামীর মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আদালত । কিন্তু চারজন প্রাপ্তবয়স্ক দোষী ব্যক্তিরা এই মামলায় পর্যায়ের দফায় দফায় দফায় আইনী প্রক্রিয়াটি “ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্ব” ও “হতাশ” করছে , যাতে তাদের ফাঁসি স্থগিত করা যায়। ২০২০ সালের ১৭ ই জানুয়ারী , দোষীরা তাদের করুণার আবেদনের অবসান ঘটিয়ে দিল্লির একটি আদালত ২০২০ সালের ১ লা ফেব্রুয়ারি ভোর ৫ টা ৫০ মিনিটে দোষীদের ফাঁসি দেওয়ার জন্য দ্বিতীয় মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানা জারি করে।

কিন্তু বার বার আইনের চোখে ধুলো দিয়ে অপরাধীরা মৃত্যুদণ্ডের বাঁচার চেষ্টা করে কিন্তু রাষ্ট্রপতি বরাবরই তদের প্রাণ ভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দেন । অবশেষে এই চার প্রাপ্তবয়স্ক দণ্ডপ্রাপ্তকে একসঙ্গে ২০ শে মার্চ ২০২০ সকাল সাড়ে ৫ টায় তিহার জেলে ফাঁসি দেওয়া হয়।  

Follow Me:

Related Posts