রাজ্য

কাকদ্বীপে করোনার গুজব, গ্রামছাড়া যুবককে বাড়িতে ফেরাল পুলিশ

Bangla 24×7 Desk : কেরলে কাজ করতেন কাকদ্বীপের মাইতিরচকের বছর পঁচিশের তরুণ সুমন দাস।দীর্ঘ তিন মাস ধরে শুকনো কাশির সঙ্গে কোমরের যন্ত্রণায় ভুগছিলেন সুমন। কিন্তু সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়ায় শুক্রবার কেরালা থেকে ছুটি  করে বাড়িতে ফিরে এসে স্থানীয় চিকিৎসকের দারস্থ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পর কাশি ও কোমরের যন্ত্রণা না কমায় কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতালে ছেলের চিকিৎসা করাবেন বলে মনস্থির করেছিলেন সুমনের বাবা-মা। কিন্তু রাতারাতি সুমন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল গ্রামে। 

আর সেই গুজব খুব দ্রুত আশেপাশের গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়তেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। কিন্তু সুমনকে কেন তার পরিবারের লোকজনেরা হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়তে থাকে এলাকার বাসিন্দাদের। শনিবার বেলা বাড়তেই একদল মানুষ সুমনের বাড়িতে গিয়ে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার জন্য হুমকিও দিয়ে আসে বলে অভিযোগ। সেই খবর চাউর হতেই গ্রামের বাসিন্দারা জোটবদ্ধভাবে সুমনের বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সুমনের পরিবারের লোকজনেরা বিক্ষোভকারীদের বোঝানোর চেষ্টার করেও কোন লাভ পায়নি। সুমন ও তার পরিবার এই গ্রামে থাকতে পারবে না বলে হুমকি দিতে থাকে বিক্ষোভকারীদের একাংশ। 

ফলে চাপের মুখে পড়ে সুমন ও তার পরিবারের লোকজনেরা বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। দুপুরে পরিবারের লোকজনেরা কাকদ্বীপ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সুমনকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায় । পরীক্ষা নিরিক্ষার পর চিকিৎসকরা সুমন  দাসের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোন উপসর্গ দেখতে পায়নি বলে সাফ জানিয়ে দেন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর সুমন দাসকে কাশি ও কোমরের যন্ত্রণার ওষুধ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। কিন্তু সুমনকে সঙ্গে করে বাড়িতে ফেরা নিয়ে সমস্যায় পড়েন পরিবারের লোকজনেরা। কারণ, ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা তাদের কোন কথাই শুনতে রাজি ছিলেন না। ফলে সুমন ও তার পরিবারের লোকজনেরা হাসপাতাল চত্ত্বরেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঘটনার খবর চাউর হতেই জোর আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে কাকদ্বীপ এলাকায়। স্থানীয়দের মাধ্যমে ঘটনার কথা কানে আসে স্থানীয় হারুউড পয়েন্ট উপকূল থানার ওসি কৃষ্ণেন্দু বিশ্বাসের। কয়েকজন পুলিশ কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ওসি হাসপাতাল চত্ত্বর থেকে সুমন ও তাঁর পরিবারের লোকজনদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সঙ্গে। পরে সুমনদের কয়েকজন প্রতিবেশীকে থানায় ডেকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের উপসর্গ সংক্রান্ত ব্যপারে সচেতন করা হয়। সেই সমস্ত মানুষের সহযোগিতায় দিনের শেষে সুমন ও তার পরিবারের লোকজনেরা গ্রামে ফেরেন। কিন্তু ঘটনার পর থেকে সুমন দাস ও তার পরিবারের  লোকজনেরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।আশেপাশের লোকজনেরা সুমনের বাড়ি থেকে দূরে সরে থাকছেন।

ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল ডাঃ রমাপ্রসাদ  রায় বলেন, ‘জ্বর, সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্ট হলেই যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সেটা নয়। তবে সমস্ত মানুষের কাছে আমাদের আবেদন গুজবে কান দিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না। গুজব ছড়াবেন না। কোন সমস্যা মনে হলে সোজা হাসপাতালে চলে আসুন।’ সর্দি-কাশী, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ নিয়ে কাকদ্বীপের স্টিমারঘাটের বাসিন্দা শম্ভু বিশ্বাসকে গত মঙ্গলবার বিকেলে ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল  কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল কাকদ্বীপের বিস্তীর্ণ এলাকায় । ওই দিন রাতে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে  স্থানান্তরিত করা হয়েছিল শম্ভুকে । পরীক্ষার পর শম্ভুর শরীরের করোনার কোন  প্রমাণ মেলেনি বলে এদিন ডায়মন্ড হারবার  মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল  সূত্রে জানা গিয়েছে। আর এই করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত গুজব রুখতে জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য দপ্তর একজোট হয়ে সচেতনতার কাজ শুরু হয়েছে। পুলিশও গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে।

কাকদ্বীপ মহকুমার এসডিপিও অনিল রায় বলেন , ‘এখন পর্যন্ত কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোন খবর নেই। সাধারণ মানুষের কাছে আমাদের আবেদন, গুজবে কান দিয়ে অযথা আতঙ্কিত হবেন না। গুজব ছড়াবেন না। প্রয়োজনে গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Follow Me:

Related Posts