দেশ বিজ্ঞান ও পরিবেশ

দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে পারে করোনা ভাইরাস ! পর্যালোচনায় স্প্যানিশ ফ্লু’র ভয়াবহ ইতিহাস

Bangla 24×7 Desk : করোনা আতঙ্কে কাঁপছে গোটা পৃথিবী l করোনার আক্রমণে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ l ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইতালি , স্পেন , জার্মানি সহ ইউরোপের বিভিন্ন রাস্ট্র l এশিয়ায় ক্ষতিগ্রস্থ ভারতবর্ষ , চিন , ইরান সহ একাধিক রাস্ট্র l

নোভেল করোনা ভাইরাসের আক্রমণে ভারতের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক । ধীরে ধীরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে বাড়তে আজ সেটা পঞ্চাশ হাজারের সীমানা অতিক্রম করেছে । পরিস্থিতি ক্রমশঃই ভয়াবহ আকার ধারন করছে । ইতিমধ্যেই আবার আশঙ্কার কথা শুনিয়ে এইমসের ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া জানিয়েছেন , জুন – জুলাইয়ের দিকে ভয়াবহ আকার নেবে করোনা ভাইরাস । সংক্রমণের হার কমার পরিবর্তে বেড়েই চলেছে । যত বেশী টেস্ট হচ্ছে ততই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

করোনা ভাইরাস তার দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে পারে । অর্থাৎ আবার হানা দিতে পারে কোভিড – ১৯ । এই প্রসঙ্গে আলোচনায় আসছে ১৯২০ সালের স্প্যানিশ ফ্লু l তার ভয়ঙ্কর রুপ গোটা বিশ্বকে কার্যত নাড়িয়ে দিয়েছিল । কি এই স্প্যানিশ ফ্লু ! কি এর ইতিহাস , আসুন জেনে নিন ।

আসা যাক ১৯২০ সালে l আক্রমণ করল স্প্যানিশ ফ্লু l দুই বছর ধরে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ৪ কোটি মানুষের যা গোটা পৃথিবীকে নাড়িয়ে দিয়েছিল l কিন্তু WHO এর মতে ৫ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল কারণ ভারত বর্ষের প্রায় ১ কোটি মানুষের মৃত্যুর পরিসংখ্যান অন্তর্ভুক্ত হয়নি l স্প্যানিশ ফ্লু মূলত ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী মানুষের ওপর থাবা বসিয়েছিল l এর থেকে রেহাই পায়নি উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশ গুলিও l এত বিপুল পরিণাম মানুষের মৃত্যু হয়েছিল যে ট্রলিতে করে মৃতদেহ সরাতে হয়েছিল l ফ্রান্সের সেনা ঘাঁটিতে শুরু হয়ে এই ভাইরাস ক্রমশঃই ছড়িয়ে পড়ে প্রায় সারা পৃথিবীতে। কানাডার বিখ্যাত ইতিহাসবিদ মার্ক হামফ্রিসের মতে , চিন থেকে ব্রিটেন এবং ফ্রান্সে কাজ করতে আসা ৯৬ হাজার শ্রমিকই ছিলেন সংক্রমণের মূল উৎস।

জানা যায় , ১৯১৮ সালে তৎকালীন বোম্বেতে আসা এক জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পরে এই সংক্রমণ , ভারতবর্ষের ইতিহাসে এই রোগটি ‘বোম্বে ফ্লু’ বলে পরিচিত। ভারতের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পরে এই ভাইরাস। ভারতবর্ষের প্রায় ১ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল এই মারণ ভাইরাসে ।

তথ্য সূত্র থেকে জানা যায় , মোট ৭ ধরনের করোনা ভাইরাস মানব দেহকে আক্রমন করতে পারে । যাদের মধ্যে ৪ টি SARS COV – 2 এর কাছাকাছি। এই চারটি রুপই বিজ্ঞানীদের আলোচনার কারণ ।

১. বিজ্ঞানীদের মতে আক্রান্ত থেকে সুস্থ হওয়া মানুষের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত প্রতিরোধ ক্ষমতার মেয়াদ বেশী হলে খুব তাড়াতাড়ি বিলুপ্ত হবে এই মারণ ভাইরাস।

২. আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়া মানুষের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত প্রতিরোধ ক্ষমতার স্থায়িত্ব কতটা তা জানা দরকার । HCoV-OC43 ও HCoV – HKU1 করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত প্রতিরোধ ক্ষমতার মেয়াদকাল মাত্র ১২ মাস । যা SARS CoV এর ক্ষেত্রে কিছুটা বেশি।

৩. SARS CoV – 2 বছরের যে কোনও সময়ে একই ভাবে তার সংক্রমণের ধারা বজায় রাখতে সক্ষম কিনা তা দেখা দরকার।

৪. SARS CoV-2 এর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কাছাকাছি অবস্থান করা করোনা ভাইরাসের কোনও রকম পুরোনো সংক্রমণ ঐ ব্যক্তির মধ্যে SARS CoV-2 এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারছে কিনা সেটাও জানা দরকার ।

তৎকালীন সময় ভ্যাকসিন , অ্যান্টিবডি কিছুই আবিস্কার হয়নি । তাছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় চিকিৎসা ব্যবস্থাও উন্নত ছিল না । তখন কিন্তু মাস্ক, লকডাউন , সামাজিক দূরত্বই ভাইরাস মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল । তাই এই মারণ ভাইরাস করোনা কে আটকাতে এগুলিই আমাদের সম্বল । এর সাথে চিকিৎসা ব্যবস্থা তো আছেই ।

Follow Me:

Related Posts