অফবিট মহানগর রাজ্য

করোনার প্রভাব কলকাতার যৌনপল্লীতে , থার্মাল স্ক্রিনিং করেই ঢুকতে হবে খদ্দেরদের

Bangla 24×7 Desk : করোনার প্রভাবে জর্জরিত কলকাতার যৌনপল্লী । আগামী ৩০ শে জুন পর্যন্ত যৌনপল্লীতে ব্যবসা বন্ধ করার ঘোষণা থাকলেও কোভিড ১৯ কে কিছুতেই আটকানো গেল না মহানগরের নিষিদ্ধ পল্লিতে। পুরসভার আধিকারিকরা ও পুলিশের কর্তারা যৌন পল্লির ঘরে ঘরে প্রচার চালিয়ে মেয়েদের ‘বাইরে যাওয়া বন্ধ’ করতে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়োগ করেছেন।

জানা গেছে , চেতলার এক তরুণী একাধিক পুরুষের ফোন পেয়ে বাইরে গিয়েছিল । তার থেকেই বাকি তিনজনের দেহে করোনার জীবাণু প্রবেশ করেছে । তাঁরা এখন কোভিড হাসপাতালে ভর্তি । চেতলার রাখাল দাস রোডের যৌনপল্লিতে একসঙ্গে চার যৌনকর্মীর শরীরে করোনা ধরা পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে কালীঘাট, সোনাগাছিতে ।

রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজা বলেন , ” যৌনপল্লিতে করোনা সংক্রমণ রুখতে না পারলে খদ্দের মাধ্যমে রাজ্যের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ারও সম্ভাবনা ” । আগামী ১ লা জুলাই থেকে সমস্ত খদ্দেরকেই থার্মাল স্ক্রিনিং করে তবেই মেয়েদের কাছে যেতে দেওয়া হবে। কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক তথা মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম জানান , “ স্যানিটাইজেশন ও আক্রান্ত যৌন কর্মীদের পাশে বসবাস করা সমস্ত মেয়েদেরই হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন খাওয়ানো শুরু হয়েছে। ”

বেলগাছিয়া , নারকেল ডাঙার বস্তির সংক্রমণ রুখে দেওয়ার পরে যৌনপল্লীতে করোনার সংক্রমণ রোখাই এখন বড় দায়িত্ব পুরসভার কাছে । সোনাগাছির মূল চারটি প্রবেশ দ্বারে থার্মাল স্ক্যনিং ও স্যানিটাইজিং এর ব্যবস্থা থাকছে । দুর্বার সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ডাঃ স্মরজিত প্রধান বলেন , ” মুখে মাস্ক পরে তো এই পেশা চলে না । তা হলেও যতটা সাবধান হওয়া যায় সেটাই মেয়েদের বলেছি । মেয়েদের পরামর্শ দিচ্ছি যে খদ্দের চলে যাওয়ার পড়ে সাবান ও শ্যাম্পুতে স্নান করতে হবে । ”

শুধুমাত্র খদ্দেররা নয় , শহরের বিভিন্ন ম্যাসাজ পার্লারগুলিও অর্থের লোভ দেখিয়ে পতিতা পল্লীর যৌন কর্মীদের বাইরে দেহব্যবসা করাতে নিয়ে যাচ্ছে । উত্তর কলকাতার বড়তলা থানা সূত্রে জানা গেছে , আর্থিক কষ্টে থাকা সোনাগাছির কিছু মেয়ে রোজগারের লক্ষ্যে শহরের নানা মাসাজ পার্লারে পৌঁছে যাচ্ছে । 

Follow Me:

Related Posts