দেশ রাজ্য

রাজ্যের কাছে আবেদন , হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন তৈরির প্রস্তুতি বেঙ্গল কেমিক্যালসের

Bangla 24×7 Desk : করোনার আতঙ্কে ভুগছে গোটা পৃথিবী, মৃত্যু মিছিল চলছে । করোনা চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত ওষুধ হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন। এই বিপদের সময় বেঙ্গল কেমিক্যালসই ভরসা।  এমনকি আমেরিকার মতো প্রথম বিশ্বের রাষ্ট্রও করোনা মোকাবিলায় ভারতের থেকে হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন চেয়েছিল । প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সেই আবেদনের ভিত্তিতে হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন আমেরিকাকে দিয়েছিলেন ।

বাংলা ও বাঙালির গর্ব বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায় তৈরি করেছিলেন বেঙ্গল কেমিক্যালস। যা ছিল তাঁর কাছে সন্তান তুল্য । স্বদেশী আন্দোলনের সময় দেশীয় শিল্পে জোয়ার আনতে তৈরি হয়েছিল বেঙ্গল কেমিক্যালস । ১৯০১ সালের ১২ এপ্রিল কলকাতার ৯১ , আপার সার্কুলার রোডে বিজ্ঞানী প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের হাত ধরে তৈরি হয়েছি বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস কোম্পানি । 

প্রসঙ্গত , মুখ্যমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি নিয়ে দেখতে বলে মুখ্যসচিব রাজীব বন্দোপাধ্যায়কে । পরিকাঠামো থাকলেও ছাড়পত্র ছিল না । সংস্থার পক্ষ থেকে রাজ্যের কাছে আবেদন করা হয় ।সেই আবেদন খুব শিগগিরই দেওয়া হবে বলে জানা গেছে । উত্তরবঙ্গের একটি বণিকসভার সাথে আলোচনার পর মুখ্যসচিব জানান , ওখান থেকে কাঁচামাল পাওয়া যাবে । যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই প্রক্রিয়া শুরু হবে ।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে বর্তমানের রাজ্য সরকার এক সময় এই বেঙ্গল ক্যেমিকেলের বিরোধিতা করেছিল। স্বাধীনতা পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবহেলা ও বঞ্চনায় শুকিয়ে গেছে বেঙ্গল কেমিক্যালস। গত বছরই বেঙ্গল কেমিক্যালসের বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। বেঙ্গল কেমিক্যালসকে বাঁচাতে প্রবল আন্দোলনও হয়েছে। এবার সেই বেঙ্গল কেমিক্যালই বাঁচাতে পারে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষকে। একমাত্র বেঙ্গল কেমিক্যালসেরই ব্যাপক ভাবে হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন উৎপাদনের ক্ষমতা আছে। 

কুইনাইন পাওয়া যায় শুধুমাত্র সিঙ্কোনা গাছের ছাল থেকে যেটা আবার নর্থ বেঙ্গলের মংপুতে প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায়। হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন এখন শুধুমাত্র প্রয়োগ করে দেখেছে। এবার হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইনের ভাণ্ডার বাড়াতে পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার । সংস্থাকে ছাড়পত্র দিতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার ।

Follow Me:

Related Posts