দেশ রাজ্য

হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন তৈরির ক্ষমতা বেঙ্গল কেমিক্যালসের !! ইতিহাস কি বলছে !!

Bangla 24×7 Desk : করোনার আতঙ্কে ভুগছে গোটা পৃথিবী, মৃত্যু মিছিল চলছে । করোনা চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত ওষুধ হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন। এই বিপদের সময় বেঙ্গল কেমিক্যালসই ভরসা। এমনকি আমেরিকার মতো রাষ্ট্রও ভারতের থেকে হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন চাইছে।

বাংলা ও বাঙালির গর্ব আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় তৈরি করেছিলেন বেঙ্গল কেমিক্যালস। স্বদেশী আন্দোলনের সময় দেশীয় শিল্পে জোয়ার আনতে তৈরি হয়েছিল বেঙ্গল কেমিক্যালস । বেঙ্গল কেমিক্যালসের ইতিহাস কি ?? আসুন সেটাই পর্যালোচনা করে দেখা যাক ।

১৯০১ সালের ১২ এপ্রিল কলকাতার ৯১ , আপার সার্কুলার রোডে বেঙ্গল কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল ওয়ার্কস কোম্পানি প্রতিষ্ঠা হয় । যার মূল কাণ্ডারি ছিলেন বাংলা ও বাঙালির গর্ব আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় । ১৯০৫ সালে কলকাতার মানিকতলায় একটি কারখানা নিয়ে শুরু থেকেই আরও তিনটি কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল । একটি ১৯২০ সালে পানিহাটিতে , একটি মুম্বাইতে ১৯৩৮ এবং একটি কানপুরে । সংস্থার সদর দপ্তর হল ৬ , গনেশ চন্দ্র অ্যাভিনিউতে । ১৯০৮ সালে জন কমিং ” বাংলার শিল্প ও অবস্থান সম্পর্কিত পর্যালোচনা ” তে উল্লেখ করেছিলেন যে ” এন্টার প্রাইজ সম্পদ ও ব্যবসায় সক্ষমতা লক্ষণ প্রদর্শন করে যা এই প্রদেশের পুঁজি পতিদের কাছে একটি বিষয় হতে পারে ” । ১৯৪২ সালে আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের মৃত্যুর পরে লড়াই শুরু করে। এই সংস্থাটির নয়টি বিক্রয় কেন্দ্র এবং ভারত জুড়ে বিভিন্ন সিএন্ডএফ এজেন্সি রয়েছে।

কিন্তু স্বাধীনতা পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবহেলা ও বঞ্চনায় শুকিয়ে গেছে বেঙ্গল কেমিক্যালস। গত বছরই বেঙ্গল কেমিক্যালসের বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় সরকার। বেঙ্গল কেমিক্যালসকে বাঁচাতে প্রবল আন্দোলনও হয়েছে। এবার সেই বেঙ্গল কেমিক্যালই বাঁচাতে পারে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষকে। একমাত্র বেঙ্গল কেমিক্যালসেরই ব্যাপক ভাবে হাইড্রক্সি ক্লোরোকুইন উৎপাদনের ক্ষমতা আছে। এর থেকে একটা কথা বলা যেতেই পারে যে কোম্পানিকে কেন্দ্রীয় সরকার এক সময় বেসরকারিকরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সেই কোম্পানি আজ বিপদের সময় ত্রাতার ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে । গোটা বিশ্ব আজ করোনার হাত থেকে বাঁচতে এই ওষুধের সাহায্য চাইছে ।

Follow Me:

Related Posts