রাজ্য

প্রথম দিনেই ৪০ হাজার টপকে প্রায় ৬০ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে গেলো ‘কল্পতরু’-র খাবার

অনিন্দ্য হালদার, ডায়মন্ড হারবার: করোনা কাঁটায় জেরবার রাজ্য l প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা l সংক্রমণ রুখতে বদ্ধ পরিকর রাজ্য সরকার l করোনা মোকাবিলা করতে একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে l কেন্দ্রীয় সরকার সংক্রমণ এড়াতে আগামী ৩০ শে এপ্রিল পর্যন্ত লক ডাউন বৃদ্ধি করেছে । স্বাভাবিক ভাবে রাজ্যেও আগামী ৩০ শে এপ্রিল পর্যন্ত লক ডাউন চলবে । কিন্তু এই লক ডাউন পরিস্থিতিতে মানুষের যাতে কোনো রকম অসুবিধা না হয় সেই জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহন করেছে রাজ্য সরকার ।

এই লক ডাউন পরিস্থিতিতে মানুষের অন্ন সংস্থানের কথা উপলব্ধি করে গত ৭ ই এপ্রিল মঙ্গলবার ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের মাননীয় সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী তাঁর লোকসভা কেন্দ্রের মানুষদের জন্য একটি প্রকল্পের ঘোষণা করেন । যার নাম “কল্পতরু” । এই ‘কল্পতরু’র মধ্যে দিয়ে সাংসদ ঘোষনা করেছিলেন , ১২ই এপ্রিল থেকে ২৩ শে এপ্রিল পর্যন্ত মোট বারো দিন ধরে ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের রোজ চল্লিশ হাজার গরীব মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে। এই কর্মসুচীতে কাজ  করবে একুশটি কমিউনিটি কিচেন টিম। ৯ ই এপ্রিল থেকে ফোনের মাধ্যেমে রেজিষ্ট্রিশেন করে নাম নথিভুক্ত করার সাংসদ একটি ফোন নম্বরও চালু করেছেন । সেটি হল  ০৩৩-৪০৮৭৬২৬২ ।

পূর্ব ঘোষণা অনুসারে এদিন থেকেই শুরু হয়ে গেল কর্মসূচী । ডায়মন্ড হারবার ১ নম্বর ব্লক ও শহর এলাকার জন্য কমিউনিটি কিচেন তৈরি করা হয়েছে রবীন্দ্র ভবন প্রাঙ্গনে । ২ নম্বর ব্লকের রান্নাঘর সরিষা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ময়দানে। পাশাপাশি ফলতা ব্লকের মানুষের বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য কমিউনিটি কিচেন হয়েছে ৪ নম্বর বেলসিংহ এলাকায় ।

ডায়মন্ড হারবার লোকসভার অধীনে থাকা সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের চল্লিশ হাজার মানুষের বাড়িতে বাড়িতে এই রান্না করা খাবার পৌঁছে দেওয়া হবে । প্রত্যেকটি রান্নাঘরে থাকছেন প্রায় ১৫/২০ জন রাঁধুনি। রান্নার কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকা সকল রাঁধুনি ও তাঁদের সহকারীদের সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে । অর্থাৎ তাঁদেরকে মাস্ক ও প্রয়োজনীয় সুরক্ষা মেনে কাজ করতে বলা হয়েছে । এর পাশাপাশি খাবার ডেলিভারি ও পাত্রে ভর্তির সময়ও সকল স্বেচ্ছাসেবকদের মাস্ক ও হাতে স্যানিটাইজার লাগাতে বলা হয়েছে ।

মানুষের আহারের পরিতৃপ্তিতে যাতে কোনো অসুবিধা না হয় তাই খাদ্য তালিকায় রয়েছে ভাত, ডাল, শুক্তো , সয়াবিন আলুর তরকারি । সাথে আলু পটলের তরকারি , মাছের ঝোলও থাকছে । শুধুই কি তাই নাকি !! স্বাদে অভিনবত্ব আনার জন্য সাংসদ চিকেন ও ডিমের ঝোলেরও ব্যবস্থা রেখেছেন । যা কিন্তু মানুষ সানন্দে আহার করতে পারবেন ।

এই কর্মযজ্ঞ দায়িত্ব নিয়ে পালন করছেন সবাই । এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডায়মন্ড হারবার ১ নং ব্লক তৃনমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি তথা পূর্তের কর্মাধ্যক্ষ মাননীয় গৌতম অধিকারী । এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ডায়মন্ড হারবার শহরের যুব তৃনমূল নেতা রাজর্ষি দাস সহ একাধিক তৃনমূল নেতা । ডায়মন্ড হারবার ১ নং ব্লক তৃনমূল যুব কংগ্রেস সভাপতি তথা পূর্তের কর্মাধ্যক্ষ মাননীয় গৌতম অধিকারী বলেন , ” মাননীয় সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী আমাদের নেতা , তিনি যা বলবেন সেটাই আমাদের কাছে বেদবাক্যের সমান । গত তিন দিন ধরে প্রস্তুতি নিয়ে আমরা এই কর্মযজ্ঞ করছি । মানুষের কাছে থেকে দারুন সাড়া মিলেছে । আমরা লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিলাম চল্লিশ হাজার মানুষের খাবারের , কিন্তু ইতিমধ্যেই প্রায় ছাপান্ন হাজার মানুষের আবেদন পাওয়া গেছে । বাড়িতে খাবার পৌঁছে যাবে । ” ব্লক অনুসারে প্রায় ৫০/৬০ জন কর্মী কাজ করছেন । তাঁরা দায়িত্ব নিয়ে রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন নাম নথিভুক্ত করা নির্দিষ্ট মানুষের কাছে।

এদিনের এই কর্মসূচি সম্পর্কে সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জী বলেন , “গত তিনদিনে প্রায় ষাট হাজার মানুষের আবেদন পেয়েছি । আজকের প্রায় সাতান্ন হাজার আটশো পঞ্চান্ন জন মানুষের কাছে খাবার পৌঁছে গেছে । ব্যক্তিগতভাবে , একজন জন প্রতিনিধি হিসেবে এই কঠিন সময়ে দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারা ছাড়া এখন অন্য কোনও পরিপূর্ণতার অনুভূতি নেই। ”

লক ডাউন পরিস্থিতিতে সাংসদের এমন মহৎ উদ্যেগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই । এর সাথে তাঁরা তাঁদের স্নেহ ও আশীর্বাদের হাত রেখেছেন মাননীয় সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জীর মাথায় ।

Follow Me:

Related Posts